নাচোলে পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যু : অধিকতর তদন্তের নির্দেশ আদালতের

19

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানায় পুলিশি হেফাজতে থাকা রিমান্ডের আসামি মাহফুজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় থানার ওসিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলায় দেয়া চুড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি আবেদন গ্রহন করেছে আদালত। শুনানি শেষে সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুস সালাম মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
থানা হাজতে আসামি মাহফুজের মৃত্যুর ঘটনাকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানিয়ে গত ৫ অক্টোবর আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তৎকালিন তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত শাখার ওসি রেজাউল হাসান। কিন্তু, পুলিশের এই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখান করে সোমবার আদালতে নারাজির আবেদন করেন মামলার বাদী নিহত মাহফুজুর রহমানের বড় ভাই শাহিনুর আলম মৃধা। শুনানিকালে বাদী পক্ষের আইনজীবী আকরামুল ইসলাম আদালতকে জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউল হাসান মামলার বিষয়ে বাদী ও স্বাক্ষীদের কোন বক্তব্য নেননি। এমনকি ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন না করেই নিজের খেয়াল খুশি মত চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত পুলিশ করায় তারা ন্যায় বিচার পাননি। পুলিশের দেয়া চুড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ১২টি বিষয়ে আপত্তি আদালতের নজরে এনে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুস সালাম নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন ।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় রিমান্ডের আসামি মাহফুজুর রহমানের। ভূয়া চিকিৎসক সেজে নাচোলের একটি ক্লিনিকে এক স্কুল ছাত্রীর অপারেশন করে হত্যার দায়ে গত ১৯ জুলাই পুলিশ মাহফুজুরকে গ্রেফতার করে। এই মামলায় গত ২৫ জুলাই তাকে ২ দিনের রিমান্ডে আনে নাচোল থানা পুলিশ। পুলিশের দাবী, ২৬ জুলাই দুপুর সোয়া একটার দিকে থানার পুরুষ হাজত খানার টয়লেটে নিজের প্যান্ট ছিড়ে দরজার ফাঁকা বিমে ঝুলে আত্মহত্যা করে আসামি মাহফুজুর রহমান। পরে টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে নিহত মাহফুজের স্বজনদের দাবী চাহিদামত উৎকোচের টাকা না দেয়ার কারণেই পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছে মাহফুজ। এই ঘটনায় নাচোল থানার তৎকালীন ওসি আনোয়ার হোসেন, এসআই আব্দুল বারিক, এসআই আহসান হাবিব, এসআই জহুরুল, এএসআই মোঃ সামসুল, ডিউটিরত কনস্টেবল চাঁনজারুল, রিমান্ডে নেয়া মামলার বাদী নাসির উদ্দিন এবং তার ভগ্নিপতি জাফর ইকবালসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করে গত ৬ আগষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ‘২০১৩ সালের হেফাজত মৃত্যু (নিবারণ) আইন’-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই শাহিনুর আলম।

LEAVE A REPLY