দাঁতের ব্যথা নিরাময়ে ঔষধী গাছ ঝুটমূল

24

কপোত নবী: আমাদের চারপাশে বিভিন্ন ধরনের ভেষজ গাছ রয়েছে। কিন্তু কোন ভেষজ গাছে কী গুণ রয়েছে তা আমরা সবাই জানি না। প্রত্যকটি ভেষজ গাছে কিছু না কিছু ঔষধী গুণ রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার ভেষজ উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে পাঁচশ ঔষধি উদ্ভিদ প্রজাতি বা ভেষজ। ঔষুধ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ভেষজ উদ্ভিদের চাহিদা সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও প্রচলিত ছিল এবং আছে। ইউনানি, আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথি ওষুধ উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বিউটি পার্লার ও প্রসাধনীতেও এখন প্রচুর ভেষজ উপাদান ব্যবহƒত হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে তেমনি একটি ভেষজ উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। দাঁত ও মাড়ির যে কোন ব্যথা নির্মূলের ভেষজ গাছ ঝুটমূল বা মূলঝুটি। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম পাওয়া যায়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক ডক্টর সাইফুর রহমান জানান, বছর দেড়েক আগে হঠাৎ একদিন গভীর রাতে ডান দিকের ওপরের মাড়িতে প্রচ- ব্যথা অনুভব করেন। প্যারাসিটামল খেয়ে কিছুটা উপশম হলেও শেষ রাতে ব্যথা তীব্র হয়। সকালে বিশাল ফার্মের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকেন। বেলা বাড়লে ব্যথা নিয়ে অফিসমুখী হলে শতাধিক কর্মচারী তাঁকে ঘিরে ধরেন। এর মধ্যে এক কর্মচারী রজব আলী হর্টিকালচার সংলগ্ন নয়াগোলা এলাকায় একটি কবিরাজের খোঁজ দিয়ে বলেন, এক ধরণের গাছের পাতা চিবালেই সেরে যায় দাঁতের ব্যথা। তাৎক্ষণিক পাতা আনতে বললে ওই কর্মচারী দ্রুত পাতা নিয়ে আসেন। সেই পাতা চিবানোর ১০ মিনিটের মধ্যে ব্যথা সেরে যায়। পরে তিনি ওই গাছের চারা সংগ্রহ করেন এবং ফার্মের ভেতর পরিচর্যা সহকারে গাছটি রোপন করেন। বর্তমানে ফার্মে গাছটির চারা ব্যাপকহারে বিক্রি হচ্ছে। দাম ৫০ টাকা। গাছটি আড়াই থেকে তিন ফুট উঁচু হয় এবং অনেক জায়গা নিয়ে ডালপালা বিস্তার করে। শাখায় শাখায় কাঁটাও রয়েছে। প্রথমে মনে হবে জংলি কোন গাছ। গাছের পাতা বেশ লম্বা যা জাম গাছের পাতার মতো দেখতে। তবে গাঢ় সবুজ পাতা ইচ্ছা করলেই ছেঁড়া যায় না। গাছের প্রতিটি ডগা, মূল থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত বেল গাছের মতো লম্বা লম্বা কাঁটা রয়েছে। সাবধানে লম্বা কাঁটা এড়িয়ে পাতা ছিঁড়তে হবে। কয়েকটি পাতা মুখে পুরে তার রস গ্রহণ করতে পারলেই দাঁতের মাড়ির যে কোন ব্যথা মাত্র ১০ মিনিটেই সেরে যাবে। ডক্টর সাইফুর রহমান আরো জানান, দীর্ঘ সময় ধরে বহু ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই তিনি এর উপকারিতার বিষয়টি সকলের সামনে আনেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সহ¯্রাধিক চারা তৈরির বিষয়টিও জনসম্মুখে নিয়ে আসেন। তিনি জানান বহু চেষ্টা করেও গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম বের করতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন এর গুণাগুণ। ডক্টর সাইফুর রহমান দাঁত ও মাড়ির ব্যথা সারানোর ঝুটমূল গাছের সহ¯্রাধিক চারা বর্তমানে রোপন করেছেন। বর্তমানে শতশত চারা হর্টিকালচার সেন্টারে পাওয়া যাচ্ছে।
হর্টিকালচার সেন্টারের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা নজিবুর রহমান জানান, ঝুটমুল গাছটির চারা ব্যাপক হারে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি চারার মূল্য ৫০ টাকা। ব্যথা উপশমে গাছটির কার্যকারিতা সত্যি অবাক করার মতো বলে জানান তিনি।
যে কোন গাছের উপকার আছে তা আরেকবার প্রমাণিত হলো এই ঔষধী গাছ ঝুটমূল এর সুবাদে। কাজেই ফলের গাছের পাশাপাশি আমাদের বাড়ি কিংবা ফাঁকা স্থানে বেশি বেশি ঔষধী গাছ রোপন করতে হবে।

LEAVE A REPLY