স্বাক্ষর জাল করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে ভুয়া চিঠি ও হাইকোটে রিট পিটিশনের অভিযোগ

78

ভারত থেকে গরু আনা বন্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি সীমান্তে সরকার অনুমোদিত বিট/খাটাল সিলগালা করার জন্য একজন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর জাল করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে ভুয়া আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে। মোঃ আবুল কালাম আজাদ নামের ওই মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ, তার স্বাক্ষর জাল করে প্রতারকচক্রটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি হাইকোটে একটি রিট পিটিশনেও দাখিল করেছে। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেছেন মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদ ম-লের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেছেন, একটি প্রতারকচক্র তার স্বাক্ষর জাল ও নাম পরিচয় ব্যবহার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোহরপুর, জোহরপুর ট্যাক ও অহেদপুর বিওপির অধীনে সরকার অনুমোদিত বিট/খাটালগুলো বন্ধ ও সিলাগালা করে দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে ভুয়া চিঠি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতারক চক্রটি তাকে পিটিশনকারী দেখিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশনও দাখিল করেছে। হাইকোর্টে রিট পিটিশনের জন্যও তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সাধারণ ডায়েরীতে তিনি আরো বলেছেন, সরকার অনুমোদিত বিট/খাটালগুলো সিলাগালার জন্য তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে কোন আবেদন বা হাইকোর্টে রিট করেন নি। তাকে হয়রানী ও অপদস্ত করার জন্য স্বাক্ষর জাল করে একটি চক্র তার নামে এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। এর সঙ্গে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় এই বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেছেন মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কালাম আজাদ। জিডি নং-১০৭।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোহরপুর ট্যাক ও অহেদপুর সীমান্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় অনুমোদিত বিট/খাটাল দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৩ লাখ গরু দেশে এসেছে। এই খাতে সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিমান ১৫ কোটি টাকা। এই বিট/খাটালগুলো বন্ধের আবেদন জানিয়ে গত জানুয়ারীতে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ ও হাইকোটে রিট পিটিশন করা হয়। কিন্তু এই আবেদনের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ থানায় জিডি করায় বিষয়টি নিয়ে রহস্যর সৃষ্টি হয়েছে।