1. admin@chapaisangbad.net : কপোত নবী : কপোত নবী
  2. kapotnabi17@gmail.com : Kapot Nabi : Kapot Nabi
News Headline :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ২৩ জনকে দন্ড প্রদান, চেকপোস্ট গুলোতে পুলিশের কড়াকড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে কঠোর বিধি নিষেধ না মানার প্রবনতা বেড়েছে- এমন চললে অবস্থা হবে ভয়ঙ্কর সীমান্ত রক্ষায় গর্বিত সৈনিক —- বিজিবির কষ্ট লাঘবে স্থায়ী পাঁকা চেকপোস্ট ঘর নির্মাণ দরকার গত চার মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬ জনসহ সারাদেশে ১৭৭ জনের প্রাণহানি  চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুক্রবার পর্যন্ত নতুন শনাক্ত ৩২ জন করোনা সনাক্তের হার নেমে ১১.২৬% আম নিয়েই যার কর্মযজ্ঞ – আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের “আম মানব” গণমাধ্যম কর্মী আহসান হাবিব চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিকিৎসকবৃন্দ করোনাকালে সবচেয়ে বড় যোদ্ধা || ডাক্তারদের উদ্যোগে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা শিবগঞ্জে বিজিবির বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার || জোরদার করা হয়েছে টহল চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে আবারও প্রাণ গেলো কিশোরীসহ ৩ জনের কর্মহীন ২০০ পরিবারের মাঝে গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ত্রাণের চাল বিতরণ 
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাটি খুঁড়ে সোনা, রুপা, চাঁদি ও তামার তৈরি সরঞ্জাম পাচ্ছে মানুষ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাটি খুঁড়ে সোনা, রুপা, চাঁদি ও তামার তৈরি সরঞ্জাম পাচ্ছে মানুষ

চাঁপাই সংবাদ, আল-মামুন বিশ্বাস, গোমস্তাপুর : 

এক সময়কার ভরা নদী পুনর্ভবা শুকিয়ে কোথাও কোথাও হাঁটু পানিতে এসে ঠেকছে। এ দৃশ্য কয়েক বছরের। পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে কয়েক বছর আগে কেউ একজন গ্রীষ্ম মৌসুমে পানি শুকিয়ে যাওয়ার স্থান খুঁড়ে পেয়েছিলেন মূল্যবান কিছু ধাতব মুদ্রা। যেগুলো বিক্রি করে ভালো আয় করেছিলেন তিনি। এরপর এই গল্প মানুষের মুখে মুখে যেতে বেশি সময় লাগেনি।

তারপর, গ্রীষ্ম মৌসুম এলেই পুনর্ভবা নদীতে মাটি খোঁড়ার ধুম পড়ে যায়। বাদ যায়নি এবারো। পুনর্ভবা নদীতে মাটি খুঁড়ে ধাতব মুদ্রাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র মিলছে আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর বাজার সংলগ্ন মহন্ত ঘাটের নদীর পাড়ে।

এখানে মাটি খুঁড়লে মিলছে মোঘল, বিট্রিশ ও পাকিস্তানি আমলের বিভিন্ন প্রকার ধাতব মুদ্রা। বিশেষ করে সোনা, রুপা, চাঁদি ও তামার তৈরি সরঞ্জাম। সেই সঙ্গে লোহার টুকরা, পাথরসহ আসবাবপত্রের বিভিন্ন ধরনের থালাঘটি, বাটি, চামচ।

এসব পাওয়ার আশায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকার লোকজনকে কোদাল ও খুনতি নিয়ে মাটি খুঁড়তে দেখা গেছে। মাটি খুঁড়ে যা পাচ্ছেন, তা বিক্রি করে কেউ কেউ প্রতিদিন ৫০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। আবার কেউ সোনা পেয়ে গেলে তো কথায় নেই। ক্লান্ত দেহেও ঝলসে ওঠে সোনার ঝিলিক।

এসব সরঞ্জাম পেতে প্রতিদিনই পুনর্ভবা নদীর ওই ঘাটে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ করা গেছে। কেউ কেউ কিনতেও যাচ্ছে। ইতিহাস বলছে, রহনপুর শহর প্রাচীন পু-বর্ধন রাজ্যের জনপদ ও প্রাক মুসলিম যুগে উন্নত ইসলামী নগরী হিসেবে খ্যাত ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের আগে এটি ভারতের বৃহত্তর মালদহ জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মহানন্দা-পুনর্ভবা নদীর মিলন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠে এ শহরটি। হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় কার্যালয় মহন্ত এস্টেট রহনপুর বাজারস্থ পুনর্ভবা নদীর পাড়ে অবস্থিত। মহন্ত এস্টেটের পাশে গড়ে ওঠে নদীর ঘাট। ঘাটে দূর-দূরান্ত থেকে নৌকায় আসা-যাওয়া করত রাজা-বাদশাসহ বিভিন্ন ধরনের লোকজন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে বলছেন, ঘাটের পাশে আরেকটি শ্মশানঘাট ছিল। ওই সময় হিন্দুরা দাহ করার সময় শ্মশানঘাটে টাকার কয়েন ফেলত। আবার কেউ কেউ বলছেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারে এ মহন্ত ঘাটে এসে নৌকায় চড়ে ভারতে পালিয়ে যাবার সময় অনেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও মূল্যবান জিনিসপত্র নদীতে ফেলে যায়।

গত ২৫ এপ্রিল রবিবার কথা হয় ধাতব মুদ্রাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পাওয়ার আশায় খুঁড়তে আসা একজনের সঙ্গে। নাম এনামুল হক পচা। তিনি জানান, প্রতিবছর নদীর পানি শুকিয়ে যায়। শুকিয়ে যাবার পর থেকে এলাকার অনেকের সাথে কয়েকবছর ধরে তিনি মাটি খুঁড়তে আসে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাটি খুঁড়েন। খুঁড়ে পাওয়া জিনিসপত্র বিক্রি করে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।

আচার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। করোনা সংক্রমণ রোধে চলমান বিধি-নিষেধ এবং রমজান মাসে আচার ফেরি করা যায় না বলে তিনিও খুঁড়তে আসছেন। পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতিদিন সকালে কোদাল নিয়ে মহন্ত ঘাটে এসে মাটি খুঁড়েন তিনি। যা পান তা বিক্রি করে কোনোমতে সংসার যাপন করতে পারছেন বলে জানান তিনি।

তিন দিন ধরে মহন্ত ঘাটে মাটি খুঁড়তে আসছেন আবুল কালাম। রবিবার তিনি একটি ঘটি পেয়েছেন। চাঁদির একটু টুকরোও পেয়েছেন। এসব পেয়ে দারুণ খুশি তিনি।

ওই ঘাটের সংলগ্ন স্থানীয় গৃহবধূ শ্রাবণী সরকার জানান, প্রতিবছর পুনর্ভবা নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন এলাকার লোকজন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুপ্তধনের আশায় কোদাল ও অন্যান্য কিছু দিয়ে নদীতে মাটি খুঁড়তে থাকে। অনেকে সোনা ও চাঁদির মালা, বিভিন্ন আমলের টাকা, তামা ও লোহার টুকরো পাচ্ছে।

আবার এসব জিনিসপত্র কিনতে অনেকেই এখানে আসছে বলে জানান তিনি। তবে অন্যরা খুঁড়লেও শ্রাবণী সরকার কখনো কিছু পাবার আশায় মাটি খুঁড়েননি।

রহনপুর মহন্ত এস্টের মহন্ত মহারাজ ক্ষিতিশ চন্দ্র আচারী জানান, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তর এস্টেট হচ্ছে লালবাগ। দেশভাগ হবার আগে প্রধান কার্যালয় চলে যায় মুর্শিদাবাদে। পাকিস্তান ও ভারগ ভাগের পর এ দেশ পাকিস্তানের মধ্যে পড়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় এস্টেট হচ্ছে রহনপুর মহন্ত এস্টেট। ১১০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই এস্টেটটি।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় এস্টেটে ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা লুঠ হয়ে যায়। এছাড়াও এস্টেটের সোনা-রুপা, মূর্তি আসবাপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্রও লুঠ হয়ে যায়। তার ধারণা, পুনর্ভবা নদীটি খনন করলে অনেক হারিয়ে যাওয়া সোনাদানা, টাকাপয়সা, রুপা কষ্টি পাথরের মূর্তি পাওয়া যেতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, পুনর্ভবা নদীর মহন্ত ঘাট ও সংলগ্ন স্থানটি খনন করা হলে মোঘল, ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলের বিভিন্ন প্রকার ধাতব মুদ্রা, স্বর্ণ, রৌপ্য, চাঁদি, তামা ও লোহার তৈরি সরঞ্জামসহ সোনার ও কষ্টি পাথরের মূর্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারিভাবে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে খনন করা হলে ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসীরা।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2021 Chapai Sangbad

Customized BY innovativenews