1. admin@chapaisangbad.net : কপোত নবী : কপোত নবী
  2. kapotnabi17@gmail.com : Kapot Nabi : Kapot Nabi
News Headline :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিল্কি এলাকায় অদ্ভুত ছেলে শিশুর জন্ম- শরীরের সব ঠিক থাকলেও নেই দুটি পা র‌্যাব চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের অভিযানে গোমস্তাপুরে ৩ জন পতিতাসহ ৫ জন আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ জন পজিটিভ রোগীর মৃত্যু || নতুন করে ১০২ জন পজিটিভ, গড়-১৬.৯৭% চাঁপাইনবাবগঞ্জে রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেন্স সেবার উদ্বোধন মহারাজপুরে মাদক বিক্রি ও আশ্রয় দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে অভিযোগ দায়ের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করলেন শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মনিরুল রাজশাহী সাংবাদিক ঐক্য পরিষদকে কুটুক্তি করায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী না হওয়ায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরও ৭ দিন আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে মহারাজপুরে দু’পক্ষের ককটেলবাজী ॥ এলাকায় আতংক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ লাখ টাকার চিকিৎসা সামগ্রী দিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাবীন মাহবুব
সফল উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষক শরিফুল- তরমুজ চাষে প্রথম বারেই বাজিমাত

সফল উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষক শরিফুল- তরমুজ চাষে প্রথম বারেই বাজিমাত

চাঁপাই সংবাদ, সোহান : সফল উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখছেন আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষক মো. শরিফুল ইসলাম। রহনপুর পৌর সভার বহিপাড়া এলাকার গোলাম মোস্তাফার ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম।কোনরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে হলুদ তরমুজ চাষে প্রথম বারেই বাজিমাত করেছেন। গত বছর পরীক্ষা মূলকভাবে কালো তরমুজ চাষ করার পর এ বছর হলুদ তরমুজে ভালো সাফল্য পান তিনি।
দীর্ঘদিন থেকে পেশায় কৃষক শরিফুল ইসলামের হঠাৎ তরমুজ চাষে আসার পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে ইউ টিউব। গতবছর নিজের মুঠোফোনে ইউটিউব দেখতে দেখতে সামনে আসে কালো তরমুজ চাষের ভিডিও। সেই ভিডিও দেখেই উদ্বুদ্ধ হয়ে খোঁজ শুরু করেন কালো তরমুজের বীজের। এরপর বীজ সংগ্রহ করে কালো তরমুজে ১৫ কাঠা জমিতে ১ বছরে ২ বারে পরীক্ষামূলক চাষাবাদ করে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শরিফুল ইসলামকে।

কৃষক শরিফুল ইসলাম

গতবছর কালো তরমুজ চাষে সফলতা পেয়ে এবছর চূড়াডাঙ্গা থেকে ৮ হাজার টাকা দরে ১০০ গ্রাম চায়না জাতের বীজ নিয়ে ১ বিঘা জমিতে শুরু করেন হলুদ তরমুজের চাষাবাদ। পাশাপাশি কালো তরমুজ রয়েছে আরও ৫ বিঘা জমিতে। প্রতি বছরে ৩ বিঘা জমি ১২ হাজার টাকা ও বাকি ৩ বিঘা জমি ১৫হাজার টাকা হিসেবে ইজারা নিয়ে এসব চাষাবাদ করছেন তিনি।

এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলেও বাজারে উচ্চ মূল্য থাকায় ভালো দাম পেয়ে খুশি তরমুজ চাষী শরিফুল।ইতোমধ্যেই শুরু করেছেন তরমুজ বাজারজাত করনের কাজ। প্রথমবার ফলন তুলে প্রায় ১ লাখ টাকার বিক্রিও করেছেন তিনি। লকডাউনের কারনে জেলার বাইরে থেকে বেপারীরা আসতে না পারলেও জেলার পাইকারী ব্যবসায়ীরাই শরিফুলের জমি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন হলুদ তরমুজ।
জেলার প্রথম হলুদ তরমুজ চাষী শরিফুল ইসলাম বলেন, চূড়াডাঙ্গা থেকে ১০০ গ্রাম বীজ ৮০০০ টাকায় এনে ৭০ গ্রাম বীজ ১ বিঘায় চাষাবাদ করেছি। এবছর পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করলেও আমি মনে করি, সফল হয়েছি। কারন আবহাওয়া অনুকুলে না থাকার কারনে ফলন কম হলেও দাম ও চাহিদা ভালো রয়েছে। এমন কি প্রথম বছরেই হলুদ তরমুজ চাষ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা ও অভিজ্ঞতা পেয়েছি। ১ বিঘা হলুদ তরমুজ চাষ মাত্র ৬০দিনেই ফল পাওয়া যাবে এবং ১-১.৫ লক্ষ টাকা আয় করা যাবে। অন্যদিকে, কালো তরমুজ পেতে সময় লাগবে ৭০ দিন এবং লাভও তুলনামূলক অনেক কম।

হলুদ তরমুজ

তিনি আরো বলেন, তরমুজ চাষ একটি ঝুঁকিপূর্ণ ফসল। সন্তানের মতো যত্ন করে চাষ করে ফসল ফলাতে হয়। সময়মতো সার-বিষ ও পানি দিতে হয়। এছাড়াও চলতি মৌসুমে এবার বৃষ্টি না হওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে। বাইরের ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি দিতে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে। ধানচাষ করে তার সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন তরমুজ চাষ করে অধিক পরিমাণে আয় করতে পারায় সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে।

শরিফুল ইসলাম জানান, কালো তরমুজ চাষে ৪০ হাজার টাকা খরচ হলেও হলুদ তরমুজ চাষে ৫০ হাজারের বেশি খরচ করতে হয়। তবে লাভের পরিমাণও তেমন বেশি। আগামী বছরের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে হলুদ তরমুজ চাষ করার ইচ্ছে আছে। যতগুলো চাষাবাদ করবো, তার ৯০ শতাংশই হলুদ তরমুজ রাখবো। কারন আগামী বছর রোজা আরো এগিয়ে আসবে। অন্যদিকে কালো তরমুজের তুলনায় হলুদ তরমুজ আরো ১০ দিন আগে ফলব দেয়। তাই আগামী রোজায় হলুদ তরমুজের চাষাবাদ করে বাজার ধরতে চাই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের বিশ্বরোড মোড়ের ফল বিক্রেতা রুবেল আলী জানান, হলুদ তরমুজ এই জেলায় প্রথম। তাই স্বাভাবিকভাবে এর চাহিদাও অনেক বেশি। অন্য তরমুজের তুলনায় অধিক দামে হলুদ তরমুজ নিতে আগ্রহী ক্রেতারা। আগে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে এগুলো আমদানি করতাম। কিন্তু এবছর প্রথমবারের মতো শরিফুল চাষ করেছে, তাই সেখান থেকেই কিনে বিক্রি করছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. বিমল কুমার প্রামানিক জানান, গত কয়েক বছরে নায্য মূল্য না পেয়ে এই জেলার কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। হাতেগোনা দু-একটি জায়গায় ছাড়া চলতি বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তরমুজ চাষের পরিমান শূণ্যের কোঠায় নেমে গেছে।
গোমস্তাপুরের শরিফুল ইসলাম নামের এক চাষী জেলায় প্রথমবারের মতো চায়না জাতের হলুদ তরমুজ চাষে ভালো সফলতা পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যেহেতু হলুদ জাতের তরমুজ বছরে ৩ বার চাষাবাদ করা যায়, এর আকার ছোট ও দেখতে খুবই আকর্ষণীয়, তাই বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে অনেক। কৃষি বিভাগ এসব উচ্চ দামের ফল চাষে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে।
এমনকি বিভিন্ন সময়ে ক্ষেতে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। আগামী বছর শরিফুল ইসলামকে দেখে এই হলুদ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হবে জেলায় কৃষকরা। কৃষক সঠিক নিয়মে চাষাবাদ করলে অবশ্যই ফলন ভাল পাবে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2021 Chapai Sangbad

Customized BY innovativenews