1. admin@chapaisangbad.net : কপোত নবী : কপোত নবী
  2. kapotnabi17@gmail.com : Kapot Nabi : Kapot Nabi
News Headline :
সীমান্ত রক্ষায় গর্বিত সৈনিক —- বিজিবির কষ্ট লাঘবে স্থায়ী পাঁকা চেকপোস্ট ঘর নির্মাণ দরকার গত চার মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬ জনসহ সারাদেশে ১৭৭ জনের প্রাণহানি  চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুক্রবার পর্যন্ত নতুন শনাক্ত ৩২ জন করোনা সনাক্তের হার নেমে ১১.২৬% আম নিয়েই যার কর্মযজ্ঞ – আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের “আম মানব” গণমাধ্যম কর্মী আহসান হাবিব চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিকিৎসকবৃন্দ করোনাকালে সবচেয়ে বড় যোদ্ধা || ডাক্তারদের উদ্যোগে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা শিবগঞ্জে বিজিবির বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার || জোরদার করা হয়েছে টহল চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে আবারও প্রাণ গেলো কিশোরীসহ ৩ জনের কর্মহীন ২০০ পরিবারের মাঝে গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ত্রাণের চাল বিতরণ  শিবগঞ্জের কমলাকান্তপুরে র‌্যাবের হাতে ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ১ যুবক আটক নামোশংকরবাটী বাগানপাড়ায় ২ কোটি টাকার হেরোইনসহ লোকমানকে আটক করেছে র‌্যাব
বৃদ্ধা জহুরা বেগমের স্বামী-ছেলে-মেয়ে কারও কাছে ঠাঁয় মেলেনি/মহানন্দা প্রবীণ নিবাস শেষ আশ্রয়

বৃদ্ধা জহুরা বেগমের স্বামী-ছেলে-মেয়ে কারও কাছে ঠাঁয় মেলেনি/মহানন্দা প্রবীণ নিবাস শেষ আশ্রয়

চাঁপাই সংবাদ, জাহাঙ্গীর আলম : মাদকাসক্ত স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতনে সুখ মেলেনি সংসার জীবনে। মাদক গ্রহণ করে বাড়ি ফিরে মারধর করে বারবার বের করে দিয়েছে বাড়ি থেকে। মাদকাসক্ত স্বামী বাড়ি থেকে বের করে দিলেও জায়গা হওয়ার কথা ছিলো প্রতিকূল পরিবেশে জন্ম দিয়ে গড়ে তোলা ৫ ছেলে-মেয়েদের কাছে। কিন্তু স্বামীর মতই ছেলেমেয়েদের কাছে একটু ঠাঁয় মেলেনি পঁচাত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধা জহুরা বেগমের।

কোন কূলকিনারা না পেয়ে গত ৪ বছর আগে নতুন একটি ঠিকানা পেয়েছেন জহুরা বেগম। স্বামী, ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনী, সংসার সব থাকা স্বত্বেও অবহেলা ও নির্যাতনে বৃদ্ধাশ্রমে জায়গা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কল্যানপুর এলাকার ৭৫ বয়সী জহুরা বেগমের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার-দক্ষিণ শহর এলাকায় গড়ে উঠা বৃদ্ধাশ্রম মহানন্দা প্রবীণ নিবাস হলো তার বর্তমান ঠিকানা। রক্তের সম্পর্কের এতো আপনজনরা থাকতেও এই নির্জন বৃদ্ধাশ্রমে মৃত্যুর প্রহর গুনতে গুনতে দিন কাটছে জহুরার। ভাগ্যদেবতা কখনোই তার যেন তার পক্ষে ছিলো না, এমনটাই মনে করেন জহুরা বেগম।

স্বামীর সংসারে প্রতিদিনের মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে করতে কেটেছে প্রায় ৫ দশক। মাদকাসক্ত স্বামীর অত্যাচারের পরেও ছেলেমেয়েদের ঠিকই নিরাপদে আদর-যত্নে মানুষ করেছে জহুরা। তবে বাস্তবেই মানুষের মতো মানুষ করতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।

৫ ছেলে-মেয়ে, বউ, জামাই, নাতি-নাতনীদের কারো সময় হয় না বৃদ্ধা জহুরার খোঁজ নেয়ার। মহানন্দা প্রবীণ নিবাসের কয়েকশ মিটার দূরে কাজ করতে আসে বড় ছেলে। তবুও একবার দেখা করতে আসেন না। এরপরেও ছেলেমেয়েদের প্রতি বিন্দুমাত্র আক্ষেপ, ঘৃণা, ক্ষোভ কিছুই নেয় জহুরা বেগমের। তার প্রত্যাশা, আরো ভালো থাকুক তার সন্তানরা। এটাই হয়তো মায়েদের চিরাচরিত চরিত্র।

বৃদ্ধাশ্রমের মহিলা ওয়ার্ডের তার বেডরুমে বসেই কথা হয় জহুরা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, অন্য আর ৫টা মায়ের মতোই ছেলেমেয়েদের মানুষ করেছি। তারপরেও আমাকে দেখে না। আল্লাহ কপালে যা লিখে রেখেছে তাই মেনে নিয়েছি। আল্লাহ তাদের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছে। তারা আরো ভালো থাকুক এটাই দোয়া করি সবসময়।

তিনি আরও বলেন, এখানে (বৃদ্ধাশ্রমে) আসার আগে ছেলেদের বলেছিলাম। তারা বলেছিলো, আমাদের কিছুই করার নেই। আসার সময় সবাইকে বললেও সকলেই দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়। মাঝেমধ্যে বয়স্ক ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে বাড়িতে উঠলেও কেউ কথা বলে না।

জহুরা বেগম এখানে আসার পর গত ৪ বছরে ৮টি ঈদ চলে গেলেও এই সময়েও কোন ছেলেমেয়ে খোঁজ-খবর নিতে আসে না জানিয়ে জহুরা বেগম বলেন, নিজে কোন কাপড় না কিনে ইদের সময়ে এই ছেলেমেয়েদের জন্য কত কষ্টে নতুন জামা-কাপড়ের ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু তারা এখন আমার খোঁজও নেয় না। এখন ছেলেমেয়েরা নিতে বাসায় যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না যাব না। কারন ওখানে গেলে কে আমাকে দেখবে? আমি তো কোন কাজ করতেও পারবো না। তাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এখানেই থাকতে চাই।

বৃদ্ধাশ্রমের মহিলা নিবাসীদের দেখাশোনা করেন আয়েশা খাতুন। তিনি জানান, জহুরা বেগমের ছেলেমেয়েরা কেউ দেখতে আসে না। তবে মাঝেমধ্যে তার এক নাতনী আসে। সেটাও আবার যখন তার বয়স্ক ভাতার টাকা পাওয়ার সময় হয়। টাকা নিয়ে চলে যায়, আর কোন খবর নাই। গত কয়েকদিন আগে বয়স্ক ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে বাসায় উঠলেও কেউ কথা বলেনি। অথচ প্রতিবার টাকা নিয়ে নেয় তারা। সেখান থেকে ফিরে এসে অনেক কান্নাকাটি করছিলো। এই কারনে গত কয়েকদিন থেকে তার মন খুব খারাপ। মহানন্দা প্রবীণ নিবাসের আরেক কেয়ারটেকার মেরাজ আলীও আয়েশা খাতুনের মতো একই কথা বলেছেন।

পাশের কয়েকটি গ্রাম দূরে বাড়ি দুই কলেজ ছাত্র তাসবিরুল আহমেদ শিমুল ও ইয়াসির আরাফাতের। মাঝেমধ্যেই দুই বন্ধু মিলে ঘুরতে আসে বৃদ্ধাশ্রমে। নিবাসীদের খোঁজ-খবর নিয়ে ও গল্প করে সময় কাটায় তারা। কথা হয় তাদের সাথে। শিমুল বলেন, ছেলেমেয়ে পরিবার থাকা স্বত্বেও অনেকেই বুক ভরা দুঃখ-কষ্ট নিয়ে এখানে বসবাস করছে। তাদের সাথে কথা বলে আমার যেমন ভালো লাগে, তেমনি তাদের মনটাও হালকা হয়। এমনকি তাদের গল্প শুনে কান্না চলে আসে।

ইয়াসির আরাফাত জানান, বর্তমান সময়ে মা’কে ভালোবাসা দিবস কেন্দ্রীক হয়ে গেছে। এটি হওয়া উচিত নয়। প্রত্যেকটি দিন আমাদের জন্য মা দিবস হওয়া উচিত। আর তা হলে এমন একটা নির্জন জায়গায় কেউ মা’কে ফেলে ঘুমাতে পারবে না। আমরা চাই না সমাজে এমন নির্জন জায়গা গড়ে উঠুক। প্রতিদিনকেই মা দিবসের মতো করে থাকতে ও বৃদ্ধাশ্রমে ঘুরে আসতে সকল ছেলেমেয়েদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সমাজসেবার অনুমোদন নিয়ে জেলার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির উদ্যোগে জেলা শহরের গাবতলা মোড়ে গড়ে উঠে মহানন্দা প্রবীণ নিবাস। পরে গতবছরের ১৯ ডিসেম্বর গাবতলা থেকে আতাহার-দক্ষিণ শহর এলাকায় সাড়ে তিন বিঘা জমির উপর নিজস্ব ভবনে বৃদ্ধাশ্রমটি স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে এখানে ১২ জন নারী, ৪ পুরুষ নিবাসী ও ৫ জন স্টাফ রয়েছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2021 Chapai Sangbad

Customized BY innovativenews