1. admin@chapaisangbad.com : adminyousuf :
আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ
অনলাইন গণমাধ্যম চাঁপাই সংবাদ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ডি এম তালেবুন নবী
চারঘাটের শলুয়ায় স্ত্রী হত্যা ও পাঁচ মাদক মামলার আরেক আসামী ইউপি সদস্য প্রার্থী

চারঘাটের শলুয়ায় স্ত্রী হত্যা ও পাঁচ মাদক মামলার আরেক আসামী ইউপি সদস্য প্রার্থী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর চারঘাটে ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রানলয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও নিজ স্ত্রী হত্যা মামলাসহ মোট ৫টি মাদক মামলার আসামী শাহাবুর রহমান।

উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে সাধারন সদস্য প্রার্থী হয়েছেন এই মাদক সম্রাট। আপেল প্রতিক নিয়ে তিনি নির্বাচন করছে। নিজ স্ত্রীকে হত্যা মামলাসহ একাধিক মাদক মামলা থাকার পরেও তিনি কি ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বলে অভিযোগ করেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীও সর্মথকরা। এ মদক সম্রাট এলাকায় ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইনসহ সকল ধরনের মাদক দিয়ে বিভিন্ন ভোটারদের কে প্রভাবিত করছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শলুয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে আপেল প্রতিক নিয়ে ইউপি সদস্য পদে অংশ নিয়েছেন সাহাবুর রহমান। তিনি তাতাঁরপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে। তিনি একাধিকবার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনির হাতে বিপুল পরিমান বিভিন্ন মাদকসহ হাতে নাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শুধু চারঘাট মডেল থানাসহ বিভিন্ন স্থানে ৫টি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধিন রয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময় ভোট কেনা থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের লোকজনকে নানাভাবে ভয়ভিতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে শাহবুর রহমানের বিরুদ্ধে। নির্বাচনে তার বিতর্কিত কর্মকান্ডে বিব্রত অন্য প্রার্থীরা। এই ওয়ার্ডে মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বি এক ইউপি সদস্য প্রার্থী বলেন, সাহাবুর রহমান আপেল প্রতিক নিয়ে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করছে। সে একজন মাদকের গটফাদার হিসাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে নিজ স্ত্রীকে হত্যাসহ একাধিক মাদক মামলা চলমান। সে নির্বাচনে বিপুল পরিমান টাকা খরচ করছে। যে কোন মূল্যে সে বিজয়ী হতে মরিয়া। তার কারণে আমরা নির্বাচন করতে গিয়ে চড়ম বিব্রত বোধ করছি। সে যেভাবে টাকা খরচ করছে আমাদের পক্ষে তা সম্ভব না।

এ বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য প্রার্থী শাহাবুর রহমান বলেন, অমি এক সময় মাদক ব্যবসা করতাম। তবে বর্তমানে কোন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতো না। মানুষ মাত্র ভুল করে। অমি ভুল করেছি। আমি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে সারাজীবন মানুষের সেবা করতে চাই। মানুষের সুখে দুখে পাসে থেকে সেবা করে আমার অতিতের ভুল সুধরে নিতে চাই।

তিনি আরো বলেন, তাছাড়া এলাকাবাসীর মনোনিত প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছি। আশা করছি ২৬ তারিখ ওয়ার্ড বাসী আপেল প্রতিকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন আমাকে। আমার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা নিশ্বচিত পরাজয় জেনেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার মামলার বিষয়টি জানে। মামলার কারনে আমি যদি নির্বাচন করতে না পারতাম তাহলে নির্বাচন কমিশনার আমার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষনা করতেন না।

চারঘাট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, বিধি মোতাবেক কোন প্রার্থী যদি কোন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয় তাহলে সে নির্বাচন করতে পারবে না। আর প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকলে সে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবেন।

তবে একাধিক মাদক মামলা থাকার পরেও নির্বাচনে অংশগ্রহন ও তার প্রার্থীতা কেন বাতিল করা হয়নি এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। তবে কোন প্রার্থী নির্বাচনি আচরণ বিধি ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয় চারঘাট থানার ওসি বলেন, সাহাবুরের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার একটি মামলা রয়েছে। তার শ্বাশুড়ি বাদি হয়ে র্দীঘদিন আগে শাহাবুরের বিরুদ্ধে এক হত্যা মামলা করে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক মামলা রয়েছে ৫ টি। শুধু সে না। শলুয়া ইউপিতে বেশ কিছু মাদক মামলার আসামীরা ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করছে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের প্রার্থীতার বিষয় নির্বাচন কমিশন যাচায় বাছায় করে তাদের প্রার্থীতা বৈধ করেছে। সে খানে আমাদের কি বলার আছে। নির্বাচনে সকল প্রকার আইনশৃক্ষলা রক্ষায় আমরা কাজ করছি। কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটলে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2021 Chapai Sangbad

Customized BY innovativenews