1. admin@chapaisangbad.com : adminyousuf :
আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ
অনলাইন গণমাধ্যম চাঁপাই সংবাদ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ডি এম তালেবুন নবী
পূর্ব শত্রুতার জেরে বাড়িতে হামলা, বাড়ি ভাংচুরসহ স্বর্ণ-টাকা লুট

পূর্ব শত্রুতার জেরে বাড়িতে হামলা, বাড়ি ভাংচুরসহ স্বর্ণ-টাকা লুট

চাঁপাই সংবাদ রিপোর্ট 🔳

নওগাঁর পোরশায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ মে) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে হামলার সময় বাড়ি ভাংচুরসহ স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুটপাট করা হয়। পোরশার নিতপুর ইউনিয়নের কালাইবাড়ি-দুয়ারপুল গ্রামের ৩টি বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় কালাইবাড়ি-দুয়ারপুল গ্রামের মৃত আলহাজ্ব ইদ্রিস আলীর ছেলে বানি ইসরাইল, ইসমাইল, আবু সাইদ ও ফজলুর রহমানের বাড়িতে এই হামলা হয়।

হামলার শিকার পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, দুয়ারপাল হাফিজিয়া ফুররকানিয়া মাদরাসায় দান করা জমি নিয়ে বিরোধে জড়ায় একই এলাকার আলতাফ হোসেনের ৫ ছেলের সাথে ইদ্রিস আলীর ৪ ছেলের। এর সূত্র ধরে এর আগে রমজান মাসে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল (সোমবার) আবারও ইদ্রিস আলীর ছেলে বানি ইসরাইল, ইসমাইল, আবু সাইদ ও ফজলুর রহমানের বাড়িতে ভাংচুর করা হয়।

পরে হামলা ও লুটপাটের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পোরশা থানা পুলিশের একটি দল। দিনের বেলায় এঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে হামলার শিকার পরিবারের সদস্যরা।

বানি ইসরাইলের স্ত্রী খাতিজা খাতুন বলেন, সোমবার বিকেলে হঠাৎ করে আমাদের বাড়ির দরজায় দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ২০-২৫ জন লোক হামলা করে। ভয়ে প্রতিবাদ করতে যায়নি। কারন তাদের হাতে বল্লম, সাবল, কোদাল ছিল। বাড়িতে ডুকে সোকেস ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে তারা। ভয়ে বাসার সবাই পালিয়ে যায়। আমরা এমন অত্যাচারের বিচার চাই।

বাড়িতে হামলার টের পেয়ে দরজায় তালা মারেন মো. ইসমাইল। বাড়ির দরজা বন্ধ পেয়ে জানালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলাকারীরা। তিনি জানান, বাড়ির পাশের দুয়ারপাল হাফেজিয়া ফুরকানিয়া মাদরাসায় আমার বাবা ১৯৫৭ সালে ভবন নির্মাণের জন্য সাড়ে ১৬ শতক ও ৫৭ শতক ফসলী জমি দান করে। এমনকি আমার বাবা নির্মাণ মাদরাসার ভবনও নির্মাণ করেছিলেন। এর সূত্র ধরেই বিরোধের সূত্রপাত।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমার বাবার দান করা জমি বাদ দিয়েও আমাদের নিজস্ব সাড়ে ৪ শতক জমিতে মাদরাসার ভবন রয়েছে। তারপরেও আমরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে তা ছাড় দিয়েছি। এরপর আরও ফাঁকা জমি দাবি করছেন মাদরাসার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ। এনিয়ে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর আবু সাইদের সাথে ঝামেলা শুরু হয়। এর সূত্র ধরেই গত রোজার সময় আমাকে মসজিদ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে। এমনকি আমার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে।

ইসমাইল বলেন, আবু সাইদের ভাই ওলি ফেনা তার সাথে আমাদেরকে মারধর করে। আমার ভাই শুকুর আলীকে ঘুম থেকে উঠিয়ে মসজিদের বাইরে থেকে উঠিয়ে এনে ব্যাপক মারধর করেছে। রোজা থাকা অবস্থাতে তাকে বেধড়ক পিটিয়েছে। সোমবারের ঘটনায় মাদরাসার সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদের নির্দেশে তার ভাই মোবারক, ফেনারুল, অলিউল্লাহ, মুনি, চাচাতো ভাই আলীম, আলম, তাবারক, আসাদুল, আলিউল, জিন্নাত, জাইদুল, লিটন, মসফুল, আনারুলসহ ১০-১৫ জন হামলায় অংশ নেয়।

ইসমাঈলের স্ত্রী মোসা. তুলি জানান, হামলার আভাস পেয়ে বাড়ির সব দিকের দরজা লাগিয়ে দিয়েছিলাম। দরজায় বেধড়ক পিটিয়ে জানালা দিয়ে ঢুকে নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণের মালা ও বালায় ৩ ভরি লুট করে তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদা খাতুন বলেন, সোমবার বিকেলে গলিতে ধান শুকাচ্ছিলাম। হঠাৎ ২৫-৩০ জন লোক লাঠিসোটা নিয়ে হামলা শুরু করে। পরে তিন বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। তারপর ঘরের দরজা ও জানালা ভাংচুর করে তারা। তবে কোন মানুষ না থাকায় কারো উপর কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এর আগেও মারামারি ও ঝামেলা হয়েছে। সোমবার বিকেলে আবার হামলার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা চাই এর একটা সুষ্ঠু সমাধান হোক। তাতে গ্রামটা শান্তিপূর্ণ থাকবে।

এবিষয়ে মাদরাসার সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ছোট ভাই মো. ওলিউল বলেন, সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ থেকে বের হওয়ার সময় মো. ইদ্রিসের ছেলেদের হামলার শিকার হয় আমার বড় ভাই আবু সাইদ। এর সূত্র ধরে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। কিন্তু কোন হামলা, ভাংচুর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। তারা নিজেরাই নিজেদের বাড়ি ভাংচুর করেছে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে শান্ত করতে হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ০১ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাকারিয়া। তিনি বলেন, ঝামেলার খবর পেয়ে সবাইকে শান্ত করতে সেখানে যায়। পরে দেখি একটি মাদরাসার সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদের লোকজন বাড়িঘরে হামলা করে। তাদেরকে মানা করলেও শুনেনি। এমনকি তাদেরকে বাধা দিতে গিয়ে আমিও মার খেয়েছি।

পোরশা থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) জহুরুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media




© All rights reserved © 2021 Chapai Sangbad

Customized BY innovativenews